Friday, January 27, 2023
Homeখবর এখনরাষ্ট্রপতি ‘চামচাগিরি’ করছেন, উদিতের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়...

রাষ্ট্রপতি ‘চামচাগিরি’ করছেন, উদিতের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়…

 প্রতিনিধি:-

 রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে  ‘রাষ্ট্রপত্নী’ বলে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন কংগ্রেসের লোকসভা দলনেতা ও বর্ষীয়ান সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী । এবার সেই তালিকায় শামিল হলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও বর্তমানে কংগ্রেস নেতা ড. উদিত রাজ৷ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সরাসরি এবার ‘চামচা’ বা স্তাবক বলে সম্বোধন করলেন এই আম্বেদকরপন্থী দলিত নেতা। তাঁর এহেন মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে সব মহলেই। যদিও নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চি সরে আসেননি উদিত রাজ । কিন্তু কেন এমন মন্তব্য করলেন তিনি?

বিশেষ সূত্রের দাবি, সোমবার গুজরাট সরকার আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি একটু হালকা চালেই বলেছিলেন, দেশের ৭৬ শতাংশ লবন গুজরাটে উৎপন্ন হয়। এটা বলা যেতে পারে যে সমস্ত দেশবাসী গুজরাটের ‘নুন’ খান। হিন্দি ভাষায়, ‘নুন’-এর অর্থ শুধু লবন নয়, আনুগত্য বা অধীনে থাকা বোঝায়। অর্থাৎ দ্রৌপদী বলতে চেয়েছেন, দেশের সমস্ত রাজ্যই গুজরাটের অনুগত। এখানে পরোক্ষে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসাও করেন মুর্মু। এতেই চটেন উদিত রাজ। টুইট করে তিনি বলেন, কোনও দেশেরই রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে পাওয়া উচিত নয়। তিনি লেখেন, ‘চামচাগিরি’ (স্তাবকতা)-র একটা সীমা থাকা উচিৎ। তিনি বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গুজরাটের লবণ খেতেই অভ্যস্ত। আপনি যদি লবণ খেয়ে জীবন যাপন করেন, তবে কী হত তা টের পেতেন। চামচাগিরি বলতে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি দ্রৌপদীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের কথা বলা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। বলার অপেক্ষা রাখেনা এই মন্তব্য ঘিরেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। এই প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, ‘কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ দেশের রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। কংগ্রেস নেতাদের এহেন মন্তব্য এই প্রথম নয়। কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরীও অতীতে এই কাজ করেছিলেন। এর থেকে তাদের আদিবাসী বিরোধী মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।’ মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা ও মুখপাত্র শাহজাদ পুনেওয়ালা এ প্রসঙ্গে টুইটারে লেখেন, ‘কংগ্রেস নেতা অজয় কুমার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শয়তান বলেছিলেন এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রপত্নি বলেছিলেন। এখন কংগ্রেস নতুনভাবে রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করছে। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কংগ্রেস কী রাষ্ট্রপতির এই ধরনের অপমানকে অনুমোদন করে?’

বিজেপির  তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন উদিত রাজ। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে আমার মন্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর প্রার্থীপদ এবং প্রচার আদিবাসীদের নামে হয়েছিল। আমার মন তখনই ভারাক্রান্ত হয়ে যায় যখন এসটি ও এসসিরা উচ্চপদে পৌঁছে নিজেদের সম্প্রদায়কে ভুলে যায় এবং চুপ করে যায়।’ তিনি এও বলেন, ‘আমি ভুল কিছু বলিনি। নিজ অবস্থানে অটুট।’ জাতীয় মহিলা কমিশন এই মন্তব্য প্রসঙ্গে উদিত রাজকে নোটিশ পাঠিয়েছে এবং অবিলম্বে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ ও নেত্রী মালা রায় বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কোনও বক্তব্যের সঙ্গে মতের মিল নাও হতে পারে। কিন্তু ভোলা উচিৎ নয়, তিনি একজন মহিলা ও সর্বোপরি দেশের রাষ্ট্রপতিও বটে। তাঁর প্রতি সৌজন্যটুকু মেনে চলাই বিধেয়।’জেনে রাখা জরুরি, উদিত রাজের এই মন্তব্যের পর চলতি বছরে এই নিয়ে তৃতীয়বার কোনও কংগ্রেস নেতা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে কুমন্তব্য করলেন। এর আগে সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন, লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এক বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে ‘রাষ্ট্রপত্নী’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। সেইজন্য সংসদের অন্যান্য সদস্যরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন। যার জেরে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়। এছাড়া কংগ্রেস নেতা অজয় কুমার ১৩ জুলাই জানিয়েছিলেন, দ্রৌপদী মুর্মু শয়তানের ধামাধারি। খুব খারাপ দর্শনকে ভারতে নিয়ে আসছেন। তিনি কখনওই আদিবাসীদের প্রতীক হতে পারেন না। তবে পরে অবশ্য বিতর্কের জেরে তিনি জানিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে নিজ মন্তব্যেই অটল থেকেছেন কংগ্রেসের এই দলিত নেতা, এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষমা চাননি উদিত রাজ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar