Saturday, February 4, 2023
Homeখবর এখনশহরে ইডি (ED)-র মাধ‍্যমে উদ্ধার হল ১০০ কোটি টাকা কিন্তু এই টাকা...

শহরে ইডি (ED)-র মাধ‍্যমে উদ্ধার হল ১০০ কোটি টাকা কিন্তু এই টাকা যাচ্ছে কোথায়…

 প্রতিনিধি

 গত তিন মাসে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছে ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি)।যা নিয়ে রীতিমত আলোচনা চলছে দেশজুড়ে। কিন্তু জানেন কি এই উদ্ধার হওয়া বা বাজেয়াপ্ত টাকা কী হয়? কোটি কোটি টাকা কোথায় যায় কী করা হয় – তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর পুরো আইনগত পদ্ধতি রয়েছে।     

১০০ কোটি বাজেয়াপ্ত:-  এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি কলকাতার মোবাইল গেমিং অ্যাপ সংক্রান্ত একটি জালিয়াতি মামলায় কলকাতার এক ধনী ব্যবসায়ীর বাসভবন থেকে ১৭ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। এর আগে ইডির আধিকারিকরা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ডের সন্ধান পেয়েছে। যেখানে গচ্ছিত রয়েছে কয়েক কোটি টাকা। প্রাথমিক তদন্ত ইডির অনুমান নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে এই আর্থিক তছরুপ পয়েছে। এছাড়াও ঝাড়খণ্ডের খনি কেলেঙ্কারিতে প্রায় ২০ কোটি নগদ বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নাম। 

টাকা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া-

আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাকে অর্থ বাজেয়াপ্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই উদ্ধার হওয়া নগদ কিন্তু ইডি নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারে না। প্রোটোকল অনুযায়ী যখনই কোনও সংস্থা নগদ উদ্ধার করে তখনই অভিযুক্তদের উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সুযোগ দেওয়া হয়। পেশ করতে হয় নথিপত্র। কিন্তু অভিযুক্ত তাতে যদি ব্যর্থ হয় তাহলে উদ্ধার হওয়া নগদকে হিসেববিহীন নগদ ও অবৈধভাবে অর্জন করা নগদ হিসেবে গণ্য করা হয়। 

বাজেয়াপ্ত করার পরের পদ্ধতি-

পরবর্তীকালে প্রেভেনশন অব মনি লন্ডারিং অ্যাক্ট এর অধীনে নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি স্টেটব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার আধিকারিকদের সাহায্য উদ্ধার হওয়া টাকা ও পয়সা গণনা করে। নোট কাউন্টিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। সবশেষ ইডি অফিসাররা ব্যাঙ্ক কর্মীদের উপস্থিতিতে একটি বাজেয়াপ্ত অর্থের তালিকা তৈরি করে। 

তৈরি হয় মেমো-

বাজেয়াপ্ত অর্থের মেমোতে নগদের পরিমাণ লেখা হয়। পাশাপাশি লেখা থাকে ২০০০, ৫০০ ও  ১০০ টাকার কটা নোট উদ্ধার হয়েছে। প্রয়োজনে ১০-২০ টাকার নোটেরও বিস্তারিত হিসেব লিখে রাখা হয়। তারপর স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতেতে নোটের বাক্স সিল করা হয়। তারপরই উদ্ধার হওয়া নোট সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার শাখায় পাঠান হয়।  তা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ব্যক্তিগত আমানত অ্যাকাউন্টের অধীনে জমা করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী তা কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়।উদ্ধার হওয়া গয়না-

অর্পিতার গয়নার তালিকাটাও খুব ছোট নয়। উদ্ধার হয়েছে. ছোটি মোটা মোটা সোনার বালা, কানের ঝোলা লম্বা দুল, অনেকগুলি গলার হার। সেগুলি বেশ মোটা। ইডি সূত্রের খবর অর্পিতার বাড়িও ওয়াড্রোবের সঙ্গে ফ্ল্যাট বাড়ির শৌচাগারেও টাকা লুকিয়ে রাখা ছিল। 

অর্থ ব্যবহার করা যায় না-

তবে নিয়ম অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা অর্থ ইডি,ব্যাঙ্ক বা সরকার ব্যবহার করতে পারে না। সংস্থাটি একটি অস্থায়ী সংযুক্তি আদেশ প্রস্তুত করে এবং জারি করে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar