Friday, January 27, 2023
Homeখবর এখনযাবতীয় ‘তিক্ততার অতীত ভুলে মমতাকে শুভেচ্ছা ধনকড়ের.

যাবতীয় ‘তিক্ততার অতীত ভুলে মমতাকে শুভেচ্ছা ধনকড়ের.

 প্রতিনিধি:-

 রাজনৈতিক পরিসরে যতই সংঘাত, মন কষাকষি থাকুক না কেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। রাজ্য বনাম রাজ্যপাল ইস্যুতে যতই অগ্নিতে ঘি সংযোগের চেষ্টা করুক না, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্কে কোন দিন ভাঁটা পড়েনি মমতার সঙ্গে। মঙ্গলবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের কাছে এমনই বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ও বর্তমানে দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় । শুধু তাই নয়, মমতার স্বাস্থ্যের খবর নেওয়া ছাড়াও তাঁকে সৌজন্যপূর্বক নমস্কারও জানিয়েছেন উপ রাষ্ট্রপতি৷ জানিয়েছেন আগাম শারদ শুভেচ্ছাও। এদিন দিল্লির বুকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জগদীপ ধনকড়ের মধ্যে এমনই বেনজির সৌজন্যমূলক বাতাবরণের মধ্যে সম্পন্ন হল বৈঠক।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক সুখেন্দু শেখর রায়ের নেতৃত্বে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ডক্টর শান্তনু সেন, দোলা সেন, সুস্মিতা দেব-এর মত দলীয় সাংসদরা। দুপুর ২.৩০ টা নাগাদ তাঁরা হাজির হন ধনকড়ের বাসভবনে। জানা গেছে, ধনকড় নিজে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান ও কুশল-বিনিময় করেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে বৈঠক। তৃণমূলের তরফে ধনকড়কে শান্তিনিকেতনী উত্তরীয় ও পুস্প স্তবক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর চা পান ও মিষ্টিমুখের পাশাপাশি চলে উভয়পক্ষের অন্তরঙ্গ কথোপকথন৷ধনকড় ও তৃণমূল প্রতিনিধিদলের বৈঠকের নির্যাস ব্যক্ত করতে গিয়ে বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘অত্যন্ত ইতিবাচক বৈঠক৷ প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে কথোপকথন। উনি (ধনকড়) সংসদীয় কার্যনির্বাহী সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিচালনার জন্য আমাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন৷ দলের তরফে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’ সুখেন্দুর সংযোজন, ‘আমরা আর্জি জানিয়েছি জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের বলতে দেওয়া হোক৷ উচ্চকক্ষে অনেকক্ষেত্রেই বিরোধীদের বক্তব্য রাখার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়৷ এই বিষয়ে তিনি (জগদীপ ধনকড়) উদারবাদী হলে, তৃণমূল সহ সব বিরোধীরাই তাঁকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।’ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য দোলা সেন বলেন, ‘উনি দেশের উপরাষ্ট্রপতি। দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন৷ তা-ই সংসদীয় সৌজন্য প্রদর্শন করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আমরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। বহু বিষয়ে সদর্থক আলোচনা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী কেমন আছেন তাও জানতে চান তিনি। সৌজন্যস্বরূপ তাকে নমস্কারও জানিয়েছেন ধনকড়।’দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুখেন্দু, শান্তনু, দোলাদের সঙ্গে এদিন অন্তরঙ্গ আলোচনায় মাতেন ধনকড়। বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন টুকরো টুকরো সুখ স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কাজের স্মৃতি ও সুসম্পর্কের কথা। তৃণমূলের সান্নিধ্যে কার্যত ‘নস্ট্যালজিক’ ধনকড় বলেন, রাজনীতির বাহ্যিক আবরণে যতই তাঁর ও তৃণমূলনেত্রীর দ্বৈরথ এবং অহি-নকুল নিয়ে সম্পর্ক নিয়েই জল্পনা চলুক না কেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্যে কখনও তা প্রভাব ফেলেনি। মমতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক নিয়ে বারবার সরব হন উপরাষ্ট্রপতি। এই প্রসঙ্গে মমতার স্বাস্থ্যেরও খোঁজ নেন তিনি। সুখেন্দু তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, যে মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর কুশলতা জানতে চেয়েছেন ও নমস্কার জানিয়েছেন৷ এরপর ধনকড়ও তৃণমূল প্রতিনিধিদের মারফৎ মমতাকে সৌজন্যস্বরূপ প্রতি নমস্কার ও শারদ শুভেচ্ছা জানান। প্রসঙ্গত, জগদীপ ধনকড় পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে বারবার। সেই নিয়ে বিতর্কও হয়েছে বহুবার। তৈরি হয়েছে ‘দূরত্ব’ও। উপরাষ্ট্রপতি পদে ধনকড়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও হাজির থাকেনি তৃণমূল। অবশেষে এত দিনে সেই বরফ গলল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর কাজ শুরু হবে নভেম্বরে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সেই অস্বস্তিকর সম্প^র্ক এদিন এই সাক্ষাৎপর্বের মাধ্যমে অনেকটাই দূরীভূত হল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar