Friday, January 27, 2023
Homeখবর এখন'দিদিকে বলো'র ধাঁচে 'দিলীপকে বলো' অভিযান! বাংলায় প্রাসঙ্গিক থাকার প্রয়াসে নয়া বিতর্ক

‘দিদিকে বলো’র ধাঁচে ‘দিলীপকে বলো’ অভিযান! বাংলায় প্রাসঙ্গিক থাকার প্রয়াসে নয়া বিতর্ক

 প্রতিনিধি,মুক্তিযোদ্ধাঃ একুশের নির্বাচনের আগে ‘দিদিকে বলো’ করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ফল পেয়েছে তৃণমূল। একুশের নির্বাচনে বিজেপিকে গোহারা হারিয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে তারা। হালে অভিষেক আবার চালু করেছেন ‘এক ডাকে অভিষেক’।বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবার ‘দিদিকে বলো’র ধাঁচে শুরু করলেন ‘দিলীপকে বলো’ অভিযান। মিজোরামে গিয়েছেন দলীয় কর্মসূচিতে। কিন্তু মিজোরামে গিয়েও তিনি বাংলার জন্য ভাবিত। তাই বাংলার জন্য তিনি নিজেই ঘোষণা করে দিলেন নয়া অভিযানের কথা। তিনি টুইট বার্তায় জানালেন, ‘দিলীপকে বলো’ অভিযানের কথা।মিজোরামেও বসে রাজ্য রাজনীতির সলতে পাকানোর কাজ করে চলেছেন দিলীপ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নির্দেশে মিজোরামে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেখান থেকেই বাংলার জন্য দিলীপ ঘোষ ঘোষণা করলেন, রাজ্যের শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে তিনি তা যেন দিলীপ ঘোষকে ই-মেল করে জানান। অভিযোগের সঙ্গে তিনি উপযুক্ত প্রমাণাদি পাঠানে নিজের ই-মেল আইডিও উল্লেখ করেছেন।দিলীপের এই আহ্বানের পর আবার নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দিলীপ ঘোষকে সম্প্রতি মুখ খুলতে মানা করেছিল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। অর্থার বিতর্ক থামাতে তাঁকে সেন্সর করা হয়েছিল। কিন্তু সে সবের তোয়াক্কা না করে তিনি টুইটে নিজের মতো করে অভিযান শুরু করলেন বাংলা নিয়ে। রাজ্য রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, দিলীপ ঘোষকে বাংলা থেকে সরাতেই ভিনরাজ্যে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দিলীপ ঘোষ ভিনরাজ্যের দায়িত্বে গিয়েও বাংলা নিয়ে একইরকম ভোকাল।দিলীপ ঘোষ বর্তমানে সে অর্থে রাজ্যের নেতা নন। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি। অর্থাত্‍ জাতীয় নেতা। বাংলায় তাঁর সঙ্গে যখন রাজ্য নেতৃত্বের বনিবনা হচ্ছে না, তখন তাঁকে বাংলার বাইরে সাত রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও দিলীপ ঘোষ বাংলা নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা, তাঁর প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে।বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে এই কারণেই যে বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই ধরনের এক উদ্যোগ নিয়েছেন সম্প্রতি। তারপর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বর্তমানে কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ কেন আবার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি কেন এমন পৃথক উদ্যোগ নিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এ প্রশ্নও উঠেছে যে, দিলীপ ঘোষ এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতা হলেও তিনি যেহেতু বাংলার প্রতিনিধি সেহেতু এ রাজ্যের শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতেই পারেন। কিন্তু কেন পৃথকভাবে, কেন বঙ্গ বিজেপির সঙ্গে একসঙ্গে তিনি আন্দোলনে থাকছেন না, কেন বিজেপির অফিসিয়াল ই-মেল আইডি দেওয়া সত্ত্বেও নিজের পার্সোলান ই-মেল আইডি দিলেন। তাহলে কি তিনি বিজেপির থেকে বিচ্ছিন্ন অভিযানে নামতে চাইছেন। দেখতে চাইছেন বা দেখাতে চাইছেন বিজেপির বাইরেও দিলীপ ঘোষের আলাদা একটা অস্তিত্ব রয়েছে।তবে দিলীপ ঘোষ এবারই প্রথম নয়, আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিদিকে বলো’র পাল্টা ‘দাদাকে বলো’ স্লোগাম তুলেছিলেন। আম্ফানের ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিলীপ ঘোষ পাল্টা ব্র্যান্ড ক্যাম্পেন শুরু করেছিলেন। দিলীপ ঘোষ ফের সেই একই পন্থা অবলম্বন করলেন। এটা কি তিনি নতুন করে জলঘোলা করতে চাইলেন নাকি রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকার চাল, তা নিয়েও চর্চা চলছে। সুকান্ত মজুমদার দিলীপ ঘোষের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ভালোই হয়েছে, দিলীপদা কিছু করলে দলের পক্ষে ডাবল বেনিফিট।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar