Friday, January 27, 2023
Homeখবর এখনআদিরা বঞ্চিতের দলেই, 'তৃণমূলী'-নব্যরাই চালিকা শক্তি! ফাটল-রোধে বিজেপির 'প্ল্যান

আদিরা বঞ্চিতের দলেই, ‘তৃণমূলী’-নব্যরাই চালিকা শক্তি! ফাটল-রোধে বিজেপির ‘প্ল্যান

 প্রতিনিধি,মুক্তিযোদ্ধাঃ আদিরা দল ছাড়বেন না এই ভরসা করে নব্যদের দায়িত্ব দিয়ে ফাটল রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। অর্জুন সিংয়ের তৃণমূল-যোগের পর যেভাবে তড়িঘড়ি সৌমিত্রপ খাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হল, তাতে রাজনৈতিক মহলের বেশিরভাগ অংশ মনে করছে, ফাটল রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। আদিরাও ক্ষুণ্ণ, তবু বিজেপি নেতৃত্বের ভরসা আদিরা হঠাত্‍ করে দল ছেড়ে যাবেন না।কিন্তু যেভাবে নব্যরা দল ছাড়ছেন, তাতে ফাটল চওড়া হয়েই চলেছে। তা বন্ধ করা আশু কর্তব্য বলে মনে করেছেন সুকান্ত-শুভেন্দুরা।অর্জুন সিং বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, এঁদের দলে নিয়ে কী লাভ হয়েছে? এতদিন দলের আদি নেতাদের বঞ্চিত করে এঁদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার ফল কী হল! আদিরাও ক্ষুণ্ণ হল, নব্য এই নেতারাও সুযোগ বুঝে পগার পার। তারপরও সেই নব্য নেতার উপরই দায়িত্ব দেওয়া হল। উদ্দেশ্য, ভাঙন ঠেকানো।দাদার ছেড়ে যাওয়া পোস্টে মনোনয়ন পেল ভাই। অর্জুন সিং তৃণমূলে গিয়েই জল্পনা বাড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, সৌমিত্র আমার ভাই আছে। তবে এত তাড়াতাড়ি কিছু না বলাই ভালো। তাঁর এই কথাতেই সৌমিত্রকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাই ফাটল চওড়া হওয়ার আগেই অর্জুনের ছেড়ে যাওয়া শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব ভাই সৌমিত্রকে দিল বিজেপি।অর্জুন সিং বিজেপি ছাড়তেই ভাঙন আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব তথা রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে চটজলদি বৈঠক করেন পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। মঙ্গলবারও বৈঠক হয়। বৈঠকের পরই সৌমিত্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আসলে সৌমিত্রও বেশ কিছুদিন ধরে বেসুরো বাজছিলেন, তাই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া ভাঙন রোধের চেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।কিছুদিন আগে অর্জুন সিং যখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ঘন ঘন মুখ খুলছেন, তখন কলকাতায় অর্জুন ছাড়াও সৌমিত্রকে নিয়েও বৈঠক করেছিলেন শুভেন্দু। তারপর অর্জুনের তৃণমূলে ফিরে যাওয়া এবং সৌমিত্রকে নিয়ে জল্পনার জাল বিছনোর পর বিজেপি আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। এমনিতেই অর্জুন চলে যাওয়ার পর বারাকপুরে কী হাল হবে বিজেপির তা অনিশ্চিত। এদিন অর্থাত্‍ বুধবার অর্জুন সিং বারাকপুরে বিজেপির সভা করে শক্তি প্রদর্শন করবেন। বিজেপি দেখাবে, অর্জুন গেলেও কোনও ক্ষতি হয়নি বিজেপির।শুধু অর্জুন ইস্যুতেই নয়, জেলায় জেলায় মণ্ডল কমিটি নির্বাচন নিয়ে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব চলছে বিজেপিতে। নব্যদের কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়ায় আদিরা গণ ইস্তফা দিচ্ছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, আবার জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে শুভেন্দু-গড় পূর্ব মোদিনীপুরের নন্দীগ্রাম- সর্বত্রই অসন্তোষেক জটাজালে আবদ্ধ বিজেপি। গণ ইস্তফা চলছে, কোথাও বা গণ ইস্তফার হুমকি।তবুও বিজেপি নব্যদের গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করেনি। নব্যদের গুরুত্ব দিয়েই কমিটি গঠন হচ্ছে। কারণ বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস আদিরা ইস্তফা দিলেও তাঁরা বিজেপি ছাড়বেন না। কিন্তু আদিরা বসে যাওয়াই যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির কাল হয়েছে, তা তো জলের মতো পরিষ্কার। তারপরও বিজেপি একই কাজ করে চলেছে। এরপর সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। সেখানে তাই কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।বিজেপি বুধবারও বৈঠকে বসতে চলেছে। সেই বৈঠকে ভার্চুায়ালি যোগ দিয়ে সৌমিত্র খাঁকে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব ও তৃণমূল থেকে আসা আর এক নেতাকে যুব সংগঠনের দায়িত্ব বুঝে দেওয়া হবে। দলে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব থাকলেও এবং আদিরা ক্ষুণ্ণ হলেও তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে। সৌমিত্র খাঁ যুব সংগঠনের দায়িত্ব ছাড়ার পর বিজেপির ওই শাখাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তেমন কোনও আন্দোলন নেই। বর্তমানে যিনি দায়িত্ব আছেন, তিনি আদি নেতা এবং আদি নেতাদেরই ঘনিষ্ঠ। তাই সেখানে নব্যকে আনা হচ্ছে।বিজেপির নিয়ন্ত্রণ নব্যদের হাতেই থাকছে সুকাবন্ত মজুমদার দায়িত্ব নেওয়ার পরেও। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শুভেন্দু অধিকারীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবং তাঁর প্রতি ভরসা রাখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই অর্জুন চলে যেতেও বিজেপিকে ধরে শখার ভার তাঁর উপর দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় বিজেপিতে আদি বনাম নব্য চললেও আদিরা বর্তমানে হালে পানি পাচ্ছেন না। যতই গণইস্তফার হুঁশিয়ারি দিক, তাঁরা পিছনের সারিতেই থাকছেন, সুকান্ত-শুভেন্দুর বিজেপিতে নব্যরা সামনের সারিতে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar