Saturday, February 4, 2023
Homeখবর এখনতৃণমূলের সাংসদ শিশির অধিকারীকে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে...

তৃণমূলের সাংসদ শিশির অধিকারীকে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে…

 প্রতিনিধি:-

 শুভেন্দু অধিকারী  ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের পর থেকে রাজনীতির অঙ্গনে অনেকটাই অন্তরালে চলে গিয়েছেন শিশির অধিকারী ৷ এমনকি এই মুহূর্তে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কী, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে ৷ কিন্তু সেই ধোঁয়াশা বোধহয় এবার কাটার সময় এসেছে।গেরুয়া শিবির সূত্রে তেমনই ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে ৷ওই সূত্রের দাবি, সংসদের নিম্নকক্ষ থেকে উচ্চকক্ষে শান্তিকুঞ্জের কর্তাকে পাঠাতে পারে বিজেপি,কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ মেনে তাঁকে রাজ্যসভায় সাংসদ হিসেবে মনোনীত করতে পারেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ৷সত্যিই কি তাই ? গেরুয়া শিবির আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে ৷ বঙ্গ বিজেপির সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এই বিষয়ে সংবাদ মাধ‍্যমকে  বলেন, ‘‘এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় ৷ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না ৷’’ শিশির অধিকারীও জানিয়েছেন যে তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না,যদিও বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে দলের জাতীয়স্তরের প্রথম সারির একজন নেতা কথা বলেছেন শিশির অধিকারীর সঙ্গে, তাঁকে এই বিষয়ে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ৷ এমনকি, বাংলায় এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি বঙ্গ বিজেপির গুটিকয়েক নেতার সঙ্গে করেছিলেন, সেখানেও এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ ওই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা শিশির অধিকারীর মেজ ছেলে শুভেন্দুও উপস্থিত ছিলেন ৷কাঁথির সাংসদকে নিয়ে এই জল্পনা আদৌ সত্যি কি না, তার উত্তর তো রয়েছে সময়ের গর্ভে ৷ কিন্তু রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবিরের অনেক অঙ্ক ৷ প্রথমত, শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন- ভোটের পর মুকুল রায়-সহ যাঁরা পদত্যাগ না করে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছেন, তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য সবচেয়ে বেশি সরব শুভেন্দু  কিন্তু তিনি যতবার সরব হন, ততবারই তৃণমূল পালটা শিশির অধিকারীর উদাহরণ তুলে ধরে ৷শিশির অধিকারী এখনও তৃণমূলের সাংসদ৷ অথচ বিধানসভা ভোটের আগে তিনি নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর হয়ে ভোট চেয়েছেন ৷ বিজেপির ভোট প্রচারের সভায় অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁকে একমঞ্চে দেখা গিয়েছে যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাননি , তৃণমূলের তরফে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম 

বিড়লার কাছে শিশিরবাবুর সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করা হয়েছে, সেই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি এখনও ৷তাই তৃণমূল বারবার ‘আপনি আচরি ধর্ম’-এর যুক্তি দিয়ে শুভেন্দুকে খোঁচা দেয় ৷ রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস‍্য হিসেবে রাজ্যসভায় যেতে গেলে শিশিরবাবুকে কাঁথির সাংসদ হিসেবে পদত্যাগ করতে হবে ৷ ফলে তৃণমূলের আক্রমণ কিছুটা হলেও ভোঁতা হবে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ত, শিশির অধিকারী এখন রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ৷ বিজেপির সরকারের তরফে তাঁকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভার পাঠানো হলে, তিনি আবার সক্রিয় হতে পারবেন ৷ এবার সরাসরি বিজেপির হয়ে কথা বলতে পারবেন ৷ সেটা পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির জন্য ইতিবাচক হবে ৷ যা লোকসভা নির্বাচনের আগে কার্যকরী হতে পারে গেরুয়া শিবিরের জন্য ৷এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, রাজ্যসভায় ১২ জনকে সাংসদ হিসেবে মনোনীত করতে পারেন রাষ্ট্রপতি ৷ এখন সেখানে পাঁচটি শূন্যপদ রয়েছে ৷ সেই পাঁচটিতে কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়েই চলছে আলোচনা ৷ এতদিন পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু’জন রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় ছিলেন ৷ তাঁদের একজন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দ্বিতীয়জন স্বপন দাশগুপ্ত ৷ দু’জনেরই মেয়াদ শেষ হয়েছে ৷ বিজেপি সূত্রের খবর, স্বপন দাশগুপ্তকে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি প্রায় পাকা ৷এখন দ্বিতীয় কাকে পাঠানো যায়, সেই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে গেরুয়া শিবির ৷ সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে বেহালায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ সূত্রের খবর, সেখানে সৌরভ বা তাঁর স্ত্রী ডোনাকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়  কিন্তু সেই প্রস্তাবে এখনও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি ৷ সেই কারণেই প্ল্যান-বি তৈরি করে রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির কিন্তু রাষ্ট্রপতি শিল্পকলা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান থাকলে তবেই এই মনোনয়ন দেন ৷ ফলে শিশির অধিকারীকে কোন বিভাগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, উঠছে এই প্রশ্নও ৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের ব্যাখ্যা, এখানে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর সামাজিক কাজকে হাতিয়ার করতে পারে বিজেপি ৷ ঠিক যেভাবে উত্তর প্রদেশের শোনভদ্রের বিজেপি নেতা রাম শাকালকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার।তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাংসদকে বিজেপি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে রাজ্যসভায় পাঠাতে চায় ৷ ঘাসফুল শিবির বিষয়টি কেমনভাবে দেখছে ? উত্তরে দলের অন্যতম রাজ্য় সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘‘বলতে পারব না ৷ উনি তো বিশ্বাসঘাতক ৷ তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিজেপিতে যে তিনি অনেক আগেই যোগ দিয়েছিলেন, এবার তার পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি কী কী পাবেন, সেটা ওঁর ব্যাপার ৷ আমরা জানি না এগুলো ৷’’একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘‘ইস্তফা দিলে যে কেউ চলে যেতে পারেন ৷ কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কার হিসেবে সাময়িক কিছু ৷ সম্মান তো ধূলোয় লুটিয়ে গিয়েছে ৷ বাড়ির থেকে বের হতে পারেন না ৷ নিজের পাড়ায় হাঁটতে পারেন না ৷ বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কার যদি কেউ পায়, সেটা তাঁর ব্যাপার ৷ এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না ৷’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar