Friday, January 27, 2023
Homeখবর এখনসাধারণ মৃত্যুতেও করোনার তকমা ক্ষতিপূরণ পেতে বিরাট দুর্নীতি কলকাতা পৌরনিগমে..

সাধারণ মৃত্যুতেও করোনার তকমা ক্ষতিপূরণ পেতে বিরাট দুর্নীতি কলকাতা পৌরনিগমে..

 প্রতিনিধি:-

 কলকাতা পৌরনিগমে এ বার সামনে এল করোনায় মৃতদের সৎকারের খরচে বিস্তর অসঙ্গতি । বিষয়টি নিয়ে বড় আর্থিক দুর্নীতির আঁচ করছেন কলকাতা  পৌরনিগমের তদন্তকারী আধিকারিকরাই ৷স্বাভাবিক ভাবে মারা গিয়েছেন এমন দেহ সৎকার করে পৌরনিগমের (Corruption suspected in KMC) খাতায় দেখানো হয়েছে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ ! পৌরনিগম সূত্রে খবর, করোনায় মৃতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নথি খতিয়ে দেখতে গিয়েই আধিকারিকদের চোখে পড়ে যায় এমন কাণ্ড । ডোম বা সৎকার কর্মীদের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায় । কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ার জোগাড় । মোটা অঙ্কের এই লেনদেনে আধিকারিকরা বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন বলে তদন্ত শুরু হয়েছে ।মেয়রের ফিরহাদ হাকিমের কানেও খবরটি পৌঁছেছে (KMC Corruption news)। তাই তদন্তের নির্দেশ গিয়েছে কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকদের কাছে । কলকাতা পৌরনিগমে করোনায় মৃতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল । সেই কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে । এর পরেই উচ্চতর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে ।কলকাতা পৌরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা পর্বে কোভিড মরদেহ কবর দেওয়া বা পোড়ানোর কাজে যুক্ত ডোম থেকে শববাহী গাড়ির কর্মীরা প্রত্যেকেই মরদেহ পিছু অর্থ পেয়েছেন । সৎকার কর্মীদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হত । পরে সেই অর্থ কমিয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয় । এই টাকার হিসেবেই বিস্তর অসঙ্গতি নজরে এসেছে । জানা যাচ্ছে, বাগমারি কবরস্থানে এই হিসেবের গরমিল শুরু । করোনার সময় বছরে 400টি করে দুই বছর কোভিড মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছে । কিন্তু দেখানো হয়েছে 1400টি করোনা দেহ সৎকারের খরচ। কর্তৃপক্ষ বলছে, ইতিমধ্যেই সেই টাকা ছাড়া হয়ে গিয়েছে হিসেব করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক গরমিল । ঘটনাটি মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে জানানো হয় । তাঁরাই অর্থ বিভাগের আধিকারিকদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন । গোটা হিসেব অডিট করানো হচ্ছে ।পৌরনিগমের আধিকারিকের কথায়, হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার পর সেটা সৎকারের সময় কবরস্থান বা শ্মশানে জমা রাখা হয় । তার বদলে কলকাতা পৌরনিগম একটি শংসাপত্র দিয়ে থাকে পরিবারকে । দেখা গিয়েছে, পরিবারের হাতে যে শংসাপত্র দেওয়া হয়, সেগুলোতে সাধারণ মৃত্যু বলে উল্লেখ রয়েছে । কিন্তু কবরস্থান বা শ্মশানে যে শংসাপত্র জমা পড়েছে, তাতে করোনায় মৃত্যু বলে স্ট্যাম্প করা হয়েছে । ফলে বড় ধরনের দুর্নীতি ঘটেছে বলেই প্রাথমিক ভাবে আঁচ করছে কর্তৃপক্ষ । তাই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে । প্রতি হাসপাতালের তথ্য ফের খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে ।ওই আধিকারিক আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের রেজিস্ট্রার এবং সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে কয়েক দফা কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ । তারপরই কর্তৃপক্ষ মনে করছে বড় ‘মাথা’ যুক্ত আছে এই গোটা চক্রে । এর মধ্যেই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাক্তন এক সর্বোচ্চ কর্তার উপর নজরদারি শুরু করা হয়েছে, যিনি অবসর নেওয়ার পরে চুক্তির ভিত্তিতে যুক্ত আছেন । এই ঘটনার পরে অর্থ বিভাগ গত দু’বছরে সবকটা শ্মশান ও কবরস্থানে করোনা মৃতদেহ কত হয়েছে, কত শংসাপত্র স্ট্যাম্প করা হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখছে । কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা সত্যি হলে তা কলকাতা পৌরনিগমের ইতিহাসে আরও এক নজিরবিহীন দুর্নীতির ঘটনা হয়ে থাকবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar