Sunday, January 29, 2023
Homeখবর এখন'প্রিয়','অপ্রিয়'র তালিকাটা বেশ সাজানো গোছানো হলেও এবার সেই তালিকায় জুড়ে গেল বিচারপতি...

‘প্রিয়’,’অপ্রিয়’র তালিকাটা বেশ সাজানো গোছানো হলেও এবার সেই তালিকায় জুড়ে গেল বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম..

 প্রতিনিধি:-

 প্রতিদিন ন্যায়ের আশা নিয়ে আদালত চত্বরে ভিড় জমান হাজারো মানুষ,বিচারও পান তাঁরা। কিন্তু খুব কম মামলাই রয়ে যায় স্মরণে আর কোন বিচারপতি সেই রায় দিলেন, তা আর ক’জনে মনে রাখে। আসলে আমাদের ‘প্রিয়’, ‘অপ্রিয়’র তালিকাটা বেশ সাজানো গোছানো। প্রিয় রাষ্ট্রনেতা থেকে অভিনেতা, খেলোয়াড়, খাবার, এমনকী পছন্দের জায়গা, সব উত্তরটাই জানা কিন্তু প্রিয় বিচারপতি? এতদিন সেই উত্তর ঠোঁটস্থ না থাকলেও, এবার হয়তো সেই ‘প্রিয়’ তালিকায় জুড়ে গেল একটা নাম তিনি বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। 

সেলুলয়েডে আমরা বহু বিচারপর্ব দেখেছি। অনেক ডায়লগও শুনেছি। তারই মধ্যে একটি জনপ্রিয় হিন্দি ছবির সংলাপ ছিল, ..সরকার, পুলিশ, প্রশাসন কথা না শুনলেও আদালত শুনবে আর ন্যায় বিচার দেবে। সত্যিই তো সেই ভরসাতেই মানুষ ছুটে যায় আদালতের দোরগোরায়। এরই মধ্যে কিছু মামলা দাগও কেটে যায়। বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে তেমনই কিছু দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। যা তাঁকে করে তুলেছে বাঙালির প্রিয় বিচারপতি। স্কুল সার্ভিস নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলছে তাঁর বেঞ্চে।

সোমবার সকলের নজর তখন কলকাতা হাই কোর্টের ১৭ নম্বর ঘরে। ঘড়ির কাঁটা তখন পৌনে তিনটে। রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলের বদলি অনিয়ম সংক্রান্ত মামলা শেষ হয়েছে সবে। পরবর্তী শুনানির দিনও নির্ধারণ করে দিয়েছেন বিচারপতি। এরই মধ্যে এসএসসি’র বিস্তর অনিয়ম প্রসঙ্গে ভরা এজলাজে এসএসসি, রাজ্য এবং স্কুলের আইনজীবীদের সামনেই তিনি বলেন, ”মনে রাখবেন ভারতে একটা জুডিশিয়ারি আছে।” এর পরেই আইনজীবী বিশ্বরূপ বিশ্বাস বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, ১৭ নম্বর কোর্টেই একমাত্র সুবিচার পাওয়া যাবে। সারা রাজ্যে জনমানসে এমন এই ধারণাটা ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরেই তাঁর মক্কেলের বক্তব্য শোনান তিনি। যিনি বলেছেন, “স্যার, বিচারপতি ‘ক’ বা বিচারপতি ‘খ’ নয়, বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চেই মামলা করে দিন। এখানেই আমি সঠিক বিচার পাব।” এমন কথা শুনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

শুধু একজন আইনজীবী নন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ে উপর আস্থা রেখেছেন আরও অনেকে। আইনজীবী অঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, তাঁর এক মক্কেল ঠাকুরপুকুরের শিক্ষিকা দীর্ঘদিন চাইল্ড কেয়ার লিভের বকেয়ার সঙ্গে আটকে থাকা বেতন পাচ্ছিলেন না। ২০১৮ সাল থেকে এই সমস্যা ভোগ করছিলেন তিনি। এর আগে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে শুনানি হয়। কিন্তু সুরাহা হয়নি অবশেষে বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চের নির্দেশ ২০ দিনের মধ্যে তাঁর সমস্যার নিষ্পত্তি ঘটে। এই কথা শোনার পরেই বিচারপতি বলেন, এর চেয়ে ভাল খবর কিছু হতে পারে না।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে আশার আলো খুঁজছেন এসএসসি আন্দোলনকারীরাও। অনেকে তো জেলায় জেলায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত প্রচার শুরু করেছেন, ‘বেকারের নয়নমণি বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়’। তাঁদের কথায়, অপদার্থ কমিশন ৭ বছরেও নিয়োগ দিতে পারেনি। তার উপর এসএসসি গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম শ্রেনীর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। সব শেষে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসেই শুরু হয়েছে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার কৌশল। একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বারবার শিরোনামে উঠে এসেছেন বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর আস্থা জিতে তিনি এখন নয়নের মণি।

তবে হাইকোর্টের কোন বিচারপতি কোন কোন মামলার বিচার করবেন, তা ঠিক করার দায়িত্ব প্রধান বিচারপতির। ফলে চাইলেও সব মামলা যে বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে হবে না, তা নিশ্চিত। তবে হয়তো বিতারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ই বলতে পারেন, “মাথায় বন্দুক ধরতে পারেন। মারতে পারেন। মরতে রাজি আছি। কিন্তু দুর্নীতি দেখলে চুপ করে থাকব না। আওয়াজ তুলবই।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Skip to toolbar