জেলাদেশরাজ্য

দশম শ্ৰেণীর ছাত্রীর কন্যাশ্রী গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক……..

কন্যাশ্রী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ছাত্রী দের জন্য একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার পুরস্কারও পেয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে কন্যাশ্রী আওতায় যেন সমস্ত ছাত্রীরাই থাকে সেইরকমই নির্দেশিকা আছে সরকারের তরফ থেকে। এই প্রকল্পে উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার জন্য এককালীন ২৫ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হয়। আর সেই ভাতা দিয়ে ছাত্রীরা কেউ মোবাইল, কেউ বা ল্যাপটপ, কেউ বা স্কুটি ছাড়াও আরো অন্যান্য খাতে খরচ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এই সমস্ত ঘটনা যেমন আছে তার সঙ্গে ব্যতিক্রম তো থাকবে, সেটাই বাঞ্ছনীয়। সেইরকমই এক ব্যতিক্রম ধরা পড়ল খড়গ্রাম দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী বনানী চন্দ্রের মাধ্যমে। কি করেছ বনানী? সে তার কন্যাশ্রীর এককালীন ২৫ হাজার টাকার ভাতা ফিরিয়ে দিয়েছে। বনানীর কথায় আমার পরিবার যথেষ্ট বিত্তশালী না হলেও সরকারি অনুদানের অন্তত কোনো প্রয়োজন নেই। আমি বারবার শুনে এসেছি সরকার বিভিন্নভাবে অর্থ অপচয় বন্ধ করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। আমার মতে, আমার মত স্বচ্ছল পরিবারের মেয়েদের এককালীন ভাতা দেয়া মানে সেটা এক প্রকারের সরকারি অর্থের অপচয়ই। আমি সরকারের টাকা অপচয় করতে দেবো না তাই এই অনুদান আমি নিতে অস্বীকার করি। আমাদের মত সচ্ছল পরিবারের মেয়েদেরকে দেওয়া সরকারি ভাতার টাকা সরকার যেন অন্য জনমুখী প্রকল্পে কাজে লাগতে পারে সেই ব্যবস্থা করুক। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনারুল খা বলেন, সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে সমস্ত ছাত্রীদেরকে এই প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে, সেই মতই আমরা স্কুলে সকল ছাত্রীদের কে ফরম ফিলাপ করার কথা বলি কিন্তু বনানী দু’বছর ধরে তার ফরম ফিলাপ করে নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, সে ওই অনুদান নিতে আগ্রহী নয় । এ বিষয়ে স্কুল পরিদর্শক পূরবী দে বিশ্বাস বলেন, যেন প্রত্যেক ছাত্রীর এই ভাতা পায় সেটাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু বনানী যে কারণ দেখিয়েছে সেটাও একবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। আমার ওর সিদ্ধান্তে একপ্রকার ভালোই লাগছে। খরগ্রাম-এর মালি পাড়ার বাসিন্দা বনানীর বাবা সুবিমল চন্দ্র কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্রের কর্মী ছিলেন । বনানীর ৪ বছর বয়সে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বনানী তার মা কমলা চন্দ্রের কাছেই মানুষ হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের জমি ছাড়াও তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল । তাই তার মা কমলাদেবীও মেয়ের এই সিদ্ধান্তে খুশি বলেই জানিয়েছেন।

Comment here